
কুড়িগ্রাম সদরের ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের কাজিপাড়া এলাকায় আদালতের ১৪৪ ধারা অমান্য করে এক সাংবাদিকের পৈত্রিক সম্পত্তি জবরদখল ও ব্যাপক লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে ভূমি দস্যু ইউনুস আলী সহ কিছু দুষ্কৃতিকারীর বিরুদ্ধে।
গত ১৯ জানুয়ারি ও ২৩ ফেব্রুয়ারি দফায় দফায় এই হামলা ও দখলদারিত্বের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক সাইফুর রহমান শামীম (৪৮) বর্তমানে তাঁর পরিবার নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাজিপাড়া গ্রামের মৃত মাহবুবর রহমান এর ক্রয়কৃত ও রেকর্ডভুক্ত ৯১ শতক জমি দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে তাঁর ওয়ারিশগণ ভোগদখল করে আসছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি মৃত রুহুল আমিন গেন্দুর পুত্র মোঃ ইউনুছ আলী, মুসা, ইসা ও আইয়ুবের নেতৃত্বে একদল দুষ্কৃতিকারী উক্ত জমি জবরদখলের চেষ্টা চালায়। এ অবস্থায় নিরুপায় হয়ে সাইফুর রহমান শামীম আদালতে ফৌঃ কাঃ বিঃ আইনের ১৪৪ ধারায় মামলা (নং ৫৪৭/২৫ ইং) দায়ের করেন।
মামলাটি আদালতে বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও গত ১৯ জানুয়ারি ভোরে বিবাদী পক্ষ অতর্কিত হামলা চালিয়ে আমার বড় ভাই মরহুম মুক্তিযুদ্ধা সহিদূর রহমানের দেয়া জমির চারপাশের সিমানার ৪২০টি টিনের বেড়া, কাঠ, বাঁশ এবং ১৩০টি কংক্রিটের সিঁড়ি লুট করে নিয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সত্যতা পেলেও দখলদাররা থামেনি। উল্টো গত ২৩ ফেব্রুয়ারি পুনরায় ভোরে দুটি টিনের চালা নির্মাণ করে জমিটি পুরোপুরি দখলের চেষ্টা চালায় তারা।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক সাইফুর রহমান শামীম অভিযোগ করে বলেন, “আমার পৈত্রিক সম্পত্তিতে ৫০ বছর ধরে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে ছিলাম। বিবাদীরা আদালতকে তোয়াক্কা করছে না। এমনকি ৯৯৯-এ কল করার পর পুলিশ এসে কাজ বন্ধের নির্দেশ দিলেও তারা বেপরোয়াভাবে দখল অব্যাহত রেখেছে। শুধু তাই নয় দিন দুপুরে প্রতিদিন সুপারির বাগান থেকে সুপারি পেড়ে নিচ্ছে। প্রতিবাদ করার মত কেউ না থাকায় ইউনুস গং এখন বেপরোয়া। বর্তমানে আমার অসুস্থ বৃদ্ধ মা, স্ত্রী ও পরিবার নিয়ে আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি।
এদিকে, লুটপাটের শিকার হয়ে ঘরের নিরাপত্তা নষ্ট হওয়ায় এবং জানমালের হুমকির মুখে সাইফুর রহমান শামীম প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তিনি জানান, অর্থাভাবে ঘরের জানালায় থাই অ্যালুমিনিয়াম লাগাতে না পেরে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রেখেছিলেন, যা টিনের বেড়া দিয়ে সুরক্ষিত ছিল। এখন সেই বেড়া লুটের ফলে ঘরের ভেতরও তাঁরা অনিরাপদ বোধ করছেন।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম সদর থানা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং উভয় পক্ষকে নিয়ে শালিসের চেষ্টা চলছে।
তবে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের বিষয়ে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
মন্তব্য করুন