দীর্ঘদিনের অবহেলা, অযত্ন আর আগাছার দখলে হারিয়ে যেতে বসা নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের মুশুরী সামাজিক কবরস্থান। ১১টি সমাজের মানুষের শেষ ঠিকানা এই কবরস্থান যেন পরিণত হয়েছিল জঙ্গলে। এমন অবস্থায় নীরবতা ভেঙে সামনে আসে একদল তরুণ।
শুক্রবার (১০ তারিখ) সকালে ‘টান মুশুরী উত্তরপাড়া ইসলামী যুব সংগঠন’-এর উদ্যোগে শুরু হয় ব্যতিক্রমী এক পরিচ্ছন্নতা অভিযান। হাতে দা, কোদাল আর ঝাড়ু নিয়ে যুবকরা নেমে পড়েন কাজে। কয়েক ঘণ্টার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগাছায় ঢেকে থাকা কবরস্থান ফিরে পায় তার হারানো সৌন্দর্য ও সম্মান।
এ সময় উপস্থিত থেকে যুবকদের উৎসাহ দেন সমাজসেবক হাজী মোবারক হোসেন ভূঁইয়া, এডভোকেট মাসুদ মিয়া, সাদ্দাম হোসেন ভূঁইয়া প্রমুখ।
পরিচ্ছন্নতা কাজে অংশ নেন যুব সংগঠক মোঃ ফয়সাল, রুবেল মিয়া, মিঠুন, সুমন, মঞ্জু, মাসুদ, জসিম, নেয়াজুল, রনি, জুবায়ের, মেহেদি, সুবহান মিয়া, মামুন, সজিব, ইয়েন, ফাহাদ, ইমরান, হানিফসহ স্থানীয় যুবক গন।
যুব সংগঠক সুমন বলেন, আমরা চাই যুব সমাজ শুধু কথায় নয়, কাজে প্রমাণ দিক। এই কবরস্থান পরিষ্কার করা আমাদের দায়িত্ববোধের অংশ। ইনশাআল্লাহ, ভবিষ্যতেও আমরা এমন উদ্যোগ অব্যাহত রাখবো।
সমাজ সেবক হাজী মোবারক হোসেন ভূঁইয়া বলেন, আজকের এই উদ্যোগ দেখে আমি সত্যিই মুগ্ধ। তরুণরা যদি এমন ভালো কাজে এগিয়ে আসে, তাহলে সমাজ বদলাতে বেশি সময় লাগবে না। আমি তাদের প্রতি দোয়া ও শুভকামনা রাখি।
এডভোকেট মাসুদ মিয়া বলেন, বর্তমানে কিছু যুবক মাদক ও জুয়ার মতো ভয়ংকর পথে ঝুঁকছে, যা সমাজের জন্য হুমকি। কিন্তু এই সংগঠনের তরুণরা দেখিয়ে দিল, ইচ্ছা থাকলে ভালো কাজ করেও সমাজে উদাহরণ সৃষ্টি করা যায়।
স্থানীয়দের মতে, বহুদিন পর কবরস্থানটি এমন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রূপে দেখা গেছে। তারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে নিয়মিত এমন কার্যক্রম চালু রাখার আহ্বান জানান।
একটি কবরস্থান পরিষ্কার করার মধ্য দিয়ে এই তরুণরা শুধু একটি স্থান নয়, বরং সমাজে ইতিবাচক চিন্তার বীজ বপন করেছে যা ভবিষ্যতে বড় পরিবর্তনের পথ দেখাতে পারে।