
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন। আর এই ইস্যুকে ঘিরে জামালপুরের রাজনৈতিক মহলে এখন সবচেয়ে আলোচিত নাম- ত্যাগী ও পরীক্ষিত নারী নেত্রী সাদিয়া হক।
জামালপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও ১৪১ জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য জননেতা মোঃ ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম-এর বড় বোন সাদিয়া হক দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজনীতির রাজপথে সক্রিয় ও সাহসী উপস্থিতি রেখে আসছেন। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কাছে তিনি শুধু একজন নেতা নন, বরং সংগ্রাম ও আদর্শের প্রতীক।১৯৯১ সাল থেকে শুরু হওয়া সাদিয়া হকের রাজনৈতিক জীবন কখনোই সহজ ছিল না। প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি ছিলেন সম্মুখসারিতে।
২০১১ সালের হরতালে রাজপথ থেকে গ্রেফতার
২০১৩ সালের ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’-তে সক্রিয় ভূমিকা ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশে অগ্রণী নেতৃত্ব প্রতিটি সংকটময় মুহূর্তে তার দৃঢ় অবস্থান তাকে তৃণমূলের কাছে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।
ঢাকা ও জামালপুর জেলা মহিলা দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করে তিনি সাংগঠনিক দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি কেন্দ্রীয়ভাবে ‘নারী ও শিশু অধিকার ফোরাম’-এর একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, যা তার নেতৃত্বগুণকে আরও শক্তিশালী করেছে।
তৃণমূলের প্রত্যাশা: মূল্যায়ন হোক ত্যাগের সরিষাবাড়ীসহ পুরো জামালপুর জেলার তৃণমূল নেতাকর্মীদের একটাই দাবি—“দলের দুঃসময়ে যিনি কখনো পিছু হটেননি, জেল-জুলুম সহ্য করেও আদর্শে অটল থেকেছেন, তাকে এবার মূল্যায়ন করতেই হবে।”
তাদের মতে, সংরক্ষিত নারী আসনে সাদিয়া হকের মনোনয়ন শুধু একজন ব্যক্তির স্বীকৃতি নয়, বরং এটি হবে ত্যাগী নেতাকর্মীদের প্রতি দলের সম্মান প্রদর্শন।
স্থানীয়দের বিশ্বাস, সাদিয়া হক সংসদে গেলে জামালপুরে নারী নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী হবে। তার অভিজ্ঞতা, ত্যাগ ও নেতৃত্বগুণ জাতীয় রাজনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াইয়ের পর এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন- দলের হাই কমান্ড কি জামালপুরের তৃণমূলের এই জোরালো দাবিকে গুরুত্ব দেবে?
সাদিয়া হকের মতো একজন নিবেদিতপ্রাণ, সংগ্রামী নেত্রীকে সংসদে পাঠিয়ে দল কি জামালপুরবাসীকে একটি ইতিবাচক বার্তা দেবে- এটাই এখন স্থানীয় রাজনীতির সবচেয়ে বড় আলোচ্য বিষয়।
মন্তব্য করুন