
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার চরপুটিমারী ইউনিয়নের ডিগ্রীরচর খলিফা পাড়ার অসহায় দম্পতি জংসের আলী ও মইচফুল বেগমের দুঃসহ জীবনযাপন নিয়ে সম্প্রতি একটি মানবিক প্রতিবেদন সম্প্রচার করে নাগরিক টিভি। ইফতার ও সেহরিতে চরম কষ্টে দিন কাটানো এই দম্পতির ভাঙাচোরা ঘরের চিত্র হৃদয় ছুঁয়ে যায় দর্শকদের।
প্রতিবেদনটি নজরে আসে জামালপুর জেলা পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক-এর। বিষয়টি জানার পরপরই তিনি মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তাঁর নির্দেশনায় রোববার দুপুরে ইসলামপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ইমরুল হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এ সময় এএসপি ইমরুল হাসান অসহায় দম্পতির জরাজীর্ণ ঘর সরেজমিনে পরিদর্শন করে দ্রুত একটি পাকা ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেন। তিনি নির্মাণ ব্যয়ের প্রাথমিক হিসাব ও নকশা প্রস্তুতের ব্যবস্থা করেন এবং আশ্বস্ত করেন, অল্প কিছু দিনের মধ্যেই ঘর নির্মাণ কার্যক্রম শুরু হবে।
পরিদর্শনকালে এএসপি ইমরুল হাসান বলেন, মানবিক এই সংবাদটি সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা বহন করছে। সংবাদটি দেখে শুধু দেশ নয়,এক আমেরিকা প্রবাসীও সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন। তিনি নাগরিক টিভির জামালপুর জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল লোমানসহ সংশ্লিষ্ট সকল গণমাধ্যমকর্মীকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন পর এমন একটি হৃদয়স্পর্শী প্রতিবেদন সত্যিই নাড়া দিয়েছে। এ ধরনের তথ্যবহুল সংবাদ দেশ ও জাতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”
তিনি আরও বলেন, সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবানরা যদি এভাবে এগিয়ে আসেন, তবে দেশের হাজারো অসহায় পরিবার আর অনিশ্চিত সেহরি ও পান্তা ভাতে ইফতার করতে বাধ্য হবে না।
মানবিক সংবাদে সাড়া দিয়ে পুলিশ প্রশাসনের এমন উদ্যোগ এলাকাবাসীর মাঝে আশার আলো জাগিয়েছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত প্রচেষ্টায় ভবিষ্যতে আরও অসহায় পরিবার পাবে নিরাপদ আশ্রয় ও স্বস্তির জীবন।
মন্তব্য করুন