
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার ২নং বেলগাছা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল মালেককে আটকের প্রায় আট ঘণ্টা পর থানা থেকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে ইসলামপুর থানা থেকে তাকে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এর আগে দুপুরে বেলগাছা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় এলাকা থেকে স্থানীয়দের মাধ্যমে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
এদিকে থানায় আটকের পর তাকে ছেড়ে দেওয়ার খবরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীরা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন এলাকায় অনুপস্থিত থাকার পর চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক ইউনিয়ন পরিষদে গেলে স্থানীয় কিছু লোক তাকে আটক করে মারধর করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। পরে বিকেল ৩টা থেকে রাত পর্যন্ত তাকে থানায় রাখা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিগত সময়ে চেয়ারম্যান আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে স্বেচ্ছাচারিতা, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগ উল্লেখ করে স্থানীয়রা দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগও দেন। পাশাপাশি এলাকায় প্রভাব বিস্তার, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে মদদ দেওয়া এবং মাদক সংশ্লিষ্টদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগও বিভিন্ন সময় সামনে আসে।
এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে অতীতে বেলগাছা ইউনিয়নের ছাত্রজনতা ও জুলাই আন্দোলনের শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ তাকে পশ্চিম অঞ্চলের ডাকাত সর্দার, দুর্নীতিবাজ ও মাদক সিন্ডিকেটের গডফাদার আখ্যা দিয়ে চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারণ ও গ্রেপ্তারের দাবিতে উপজেলায় একাধিক মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচিও পালন করেন।
এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ জুলাই আন্দোলনের কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করে জানান, আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই চেয়ারম্যান জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। এমন একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে আটক করার পরও ছেড়ে দেওয়া জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল বলে মন্তব্য করেন তারা।
এ বিষয়ে ইসলামপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ কামাল বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে মারধরের ঘটনায় তাকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। পরিস্থিতি বিবেচনায় পরে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন