
রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানি নির্ধারিত সময়ে না কমায় মহালছড়িতে বোরো মৌসুমের ধান চাষ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলা সদর ইউনিয়ন ও মুবাছড়ি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায় চৌংড়াছড়ি মুখ, ভুয়াত্যে পাড়া, পাহাড়তলী, হেডম্যান পাড়া, স-মিল পাড়া, দুরপজ্যে নাল, কেরেঙ্গানাল, মনাটেক, কাপ্তাই পাড়া, মহামনি পাড়া, ব্রীজ পাড়া, খুল্যাংপাড়া, মেশিন পাড়া ও খ্যাংসা পাড়ার কৃষকরা সময়মত ধান চাষ করতে না পারার কথা জানিয়েছেন।
জানা যায়, রাঙ্গামাটির কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণের ফলে প্রায় ৫৪ হাজার একর জমি পানির নিচে চলে গেছে।
কৃষকদের অভিযোগ, প্রতি বছর জলে ভাসা জমিগুলো কাপ্তাই হ্রদের পানি কমলে বোরোধান চাষ করা হয়, এই বছর কি কারণে এই সময়মত পানি কমতেছেনা তা তারা জানে না। এই জমিগুলো বর্ষাকাল আসলে ৬ মাস পানিতে ডুবে থাকে এবং পানি কমে গেলে বাকি ৬ মাস বোরো ধান চাষ করা হয়। উক্ত এলাকার কৃষকরা কর্তৃপক্ষের কাছে কাপ্তাই হ্রদের পানি ব্যবস্থাপনার দাবি জানিয়েছেন। যাহাতে তারা সময় মত বোরো ধানের চাষ করতে পারেন।
মনাটেক গ্রামের কৃষক অতুল খীসা (৪০) বলেন প্রতি বছর ডিসেম্বর মাসে ধান রোপন করি। এখন ফেব্রয়ারি মাস শেষ হলো। আমরা বোরোধান ফাল্গুন মাসের ১০/১৫ দিনের বিতরে রোপন করা শেষ করি।এখন দেখা যাচ্ছে সময় মত চাষ করতে না পারাতে সামনে বছর আমাদের চাউল কিনে খেতে হবে এবং ছেলে-মেয়েদের লেখা-পড়া খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হবে। তিনি কাপ্তাই বাঁধ কতৃপক্ষের কাছে দ্রুত হ্রদের পানি ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানান।
চৌংড়াছড়ি মুখ গ্রামে একজন বর্গাচাষি কৃষক অংসোথোয়াই মারমা (৩৫)বলেন আমি প্রতি বছর ৪ বিঘা জমি বর্গাচাষ করি এবং প্রতি বছর জানুয়ারির শেষের দিকে বোরো ধান রোপন শেষ করি এই বছরে ফেব্রয়ারি শেষ হতে চললো এখনো ১ বিঘা ও রোপন করতে পারি নাই। কি অজুহাতে এই বছর কাপ্তাই হ্রদের পানি ধীরগতিতে নামানো হচ্ছে আমাদের জানা নেই। পানি না কমার ফলে কৃষকরা রোপণ তো দূরের কথা, অনেক জায়গায় চর না ওঠায় বীজ বপনও করতে পারছে না।
মন্তব্য করুন