নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার গাবাড়ি স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও গোপনে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন শিক্ষক, কর্মচারী ও স্থানীয়রা ।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি ) দুপুরে গয়াবাড়ি স্কুল এন্ড কলেজ চত্বরে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কলেজের সহকারী অধ্যাপক কামরুজ্জামান। তিনি অভিযোগ করেন, ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ অবসরে যাওয়ার পর তৎকালীন গয়াবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল রহিমের ছেলে ফরহাদ হোসেন দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রতিষ্ঠানে কমিটি গঠন, নিয়োগসহ নানা ক্ষেত্রে অনিয়ম শুরু হয়।
তিনি আরো বলেন, ২০১১সালে এডহক কমিটির ছয়জন সদস্য দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে লিখিত অভিযোগ দিলেও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টো ওই সময় থেকেই প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন, একাডেমিক কার্যক্রম ও পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলে অবনতি দেখা দেয়। লিখিত অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালে ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের পর ফরহাদ হোসেন সরকারের বিরুদ্ধে ১৪ টি অভিযোগ দায়ের করা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তদন্তে অনিয়মের সত্যতা পান এবং তাকে অব্যাহতি প্রদান করেন।
এরপর সহকারি অধ্যাপক ( অর্থনীতি ) কামরুজ্জামানকে দায়িত্বভার বুঝিয়ে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। তবে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, এসব বিষয়ে মামলা ও আদালতে আপিল থাকা সত্ত্বেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পক্ষ থেকে কোন জারি হয়নি। বরং ২০১৭ সালে নিয়মিত কমিটির স্বাক্ষর জাল করে কোটি টাকার বিনিময়ে আটজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগপ্রাপ্তদের কখনোই প্রতিষ্ঠানের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে দেখা যায়নি বলেও অভিযোগ করা হয় ।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সদস্য বদিউজ্জামান, শিক্ষক শামসুল আলম, গোলাম মোস্তফা, হুমায়রা বেগম, ফিরোজুল ইসলাম, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমানসহ অন্যান্য শিক্ষক ও স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ।