পার্বত্য চট্টগ্রামের বৌদ্ধ ধর্মের জাগরণের অগ্রদূত পরম পূজনীয় নির্বাণগামী শ্রদ্ধেয় বনভান্তের সংঘের প্রধান রাজ বনবিহারে অধ্যক্ষ শ্রদ্ধেয় প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবির ভান্তের ৭৬তম শুভ জন্মদিন উপলক্ষে রাঙ্গামাটি হতে খাগড়াছড়ি ৮০ কিলোমিটার পায়ে হেটে ভিক্ষু সংঘের শান্তি ধর্মযাত্রা অভিমুখী পূজনীয় ভিক্ষু সংঘকে পিণ্ডদান এবং নানাবিধদান মহতী দানানুষ্ঠান খাগড়াছড়ির মহালছড়ি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
৪ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) ২০২৬ইং মহালছড়ি মিলনপুর বনবিহারে অধ্যক্ষ শ্রদ্ধাতিষ্য ভিক্ষু নেতৃত্বে মহালছড়ির ধর্মপ্রাণ এলাকাবাসী ও দায়ক- দায়িকা আয়োজনে মহালছড়ি সরকারি কলেজ মাঠে দুই শতাধিক ভিক্ষু সংঘের কাছে ত্রিশরণসহ পঞ্চশীল গ্রহন, অষ্টপরিষ্কার দান, সংঘদান, বুদ্ধমূর্তিদান এবং পিণ্ডদানসহ নানানপানীয় দান করা হয়েছে।
জানা যায় মঙ্গলবার ভোর ৫.৩০ মিনিট সময়ে কর্মসূচি পরিকল্পনা সার্বিক তত্ত্ববধানে ভদন্ত বিমলানন্দ মহাথের নেতৃত্বের দুই শতাধিক ভিক্ষু সংঘ রাঙ্গামাটির হতে খাগড়াছড়ি উদেশ্যের ৮০ কি.মি.পায়ে হেটে পরিকল্পিত ভাবে শান্তির ধর্মযাত্রা (ধম্মযাত্রা) সর্বদা থাইল্যান্ড থেকে পূজনীয় ভিক্ষু সংঘ অংশগ্রহন করেন এবং হাজার হাজার ধর্ম প্রাণ দায়ক-দায়িকা ধর্মযাত্রা সফল সঙ্গী হয়ে ২য়দিনে ধর্ম যাত্রা বিরতি দুপুর ১.০০ সময়ে মহালছড়ি কলেজ মাঠ থেকে পদযাত্রা শুরু মাঝপথে লেমুছড়ি ফুটবল মাঠ ও নয়াপাড়া হেডম্যান কার্যালয় এবং গামারীঢালা বনবিহার প্রতিটি স্হানে ৩০ মিনিট বিরতি করবে। রাত্রি যাপন মৈত্রীপুর ভাবনা কেন্দ্র ইটছড়ি এইভাবে ৫/৬/৭ তারিখে শনিবার পেরাছড়া হাইস্কুল মাঠে পিন্ড চারণ ও ভোজন গ্রহণ শেষে ধর্ম পুর আর্য্য বনবিহার খাগড়াছড়ি শান্তির ধর্মযাত্রা সমাপ্তি ঘোষণা করবে।
ভগবান বুদ্ধের সময়ের ধর্ম যাত্রার অনেক গুরুত্ব পূর্ণ যেখানে তিনি সত্যের সন্ধানে বের হয়েছিলেন। তিনি শিখিয়েছেন যে, মানুষের জীবনের উদ্দেশ্য হলো দুঃখ থেকে মুক্তি পাওয়া আর নির্বাণ লাভ করা।
ধর্ম যাত্রার মাধ্যমে মানুষ নিজের ভেতরের ভালো গুণগুলোকে জাগ্রত করতে পারে। এটি মানুষকে হিংসা-দ্বেষ, লোভ-মোহ থেকে মুক্তি দিয়ে শান্তি আর সুখের পথে নিয়ে যায়। তাই, ধর্ম যাত্রা হলো একটা সুযোগ নিজেকে পরিবর্তন করার আর একটা ভালো মানুষ হওয়ার।ধর্ম যাত্রা হলো এক ধরনের আধ্যাত্মিক অভিযান, যেখানে মানুষ নিজেকে জানার আর বুঝার চেষ্টা করে। এটি শুধু একটা ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি হলো শান্তি, প্রেম আর মৈত্রীর পথে চলা।