
আদালতের চলমান নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম শহিদুর রহমান ও সাংবাদিক শামীম—এই দুই সহোদরের পৈত্রিক বসতভিটায় রাতের আঁধারে লুটপাট, অবৈধ দখল এবং ঘর নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় কুড়িগ্রাম সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
জানা যায়, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের কাজীপাড়া গ্রামে শহিদুর রহমানের পিতা কর্তৃক ক্রয়কৃত জমিতে প্রায় ৫০ বছর ধরে দুই পরিবারসহ তাদের ওয়ারিশরা বসবাস করে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, একটি কুচক্রী মহলের ইন্ধনে নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ ইউনিয়নের ছালাভুড়ি গ্রামের ইউনুস আলী, বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মুসা মিয়া, আইয়ুব আলী, ইসা মিয়া এবং তাদের সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় আশ্রয় নিয়ে সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন।
পূর্ব পরিকল্পিতভাবে গত ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ইং ভোর ৫টা ২০ মিনিটে ইউনুস আলী গং তাদের আত্মীয়-স্বজন ও ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের নিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম শহিদুর রহমান ও সাংবাদিক শামীমের বসতভিটায় হামলা চালায়। এ সময় তারা সীমানার প্রায় ৪২০টি টিন, কাঠ, বাঁশ ও কংক্রিটের সিঁড়িসহ দেড় শতাধিক মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। শুধু তাই নয়, পৈত্রিক সম্পত্তিতে জোরপূর্বক একটি ঘরও নির্মাণ করে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই জমি নিয়ে আদালতে ১৪৪ ধারার মামলা (নং–৫৪৭/২৫) চলমান থাকলেও দুষ্কৃতিকারীরা তা অমান্য করে এ ঘটনা ঘটায়। ঘটনার দিন সকালে সাংবাদিক শামীম কুড়িগ্রাম সদর থানার অফিসার ইনচার্জকে ফোনে বিষয়টি অবহিত করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সত্যতা পায় এবং থানায় অভিযোগ দিতে পরামর্শ দেয়।
পরবর্তীতে ২০জানুয়ারী ২০২৬ ইং সাংবাদিক সাইফুর রহমান শামীম বাদী হয়ে কুড়িগ্রাম সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে সদর থানার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে লুটপাটের সত্যতা পান এবং দুষ্কৃতিকারীদের মালামাল ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন।
তবে পুলিশের নির্দেশের পরদিন ইউনুস আলীর ইশারায় নামমাত্র কয়েকটি টিন বাদীর বাড়িতে ফেরত দেওয়া হলেও অধিকাংশ পুরনো ও নতুন টিনসহ অন্যান্য মালামাল এখনও দুষ্কৃতিকারীদের কাছে রয়ে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে পুলিশের নির্ধারিত সালিশ বৈঠকের আগের দিন ২৩ জানুয়ারী ইউনুস আলী গং দল ভারী করতে পূর্বের এক জমি বিরোধে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা পাওয়া পক্ষকেও সঙ্গে নিয়ে আবারও বসতভিটায় ঘর তোলার চেষ্টা করে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানানো হলে এসআই সাইফুল ফোনে ঘর তোলা বন্ধ করার নির্দেশ দেন।
পরদিন ২৪ জানুয়ারী ২০২৬ ইং পুলিশের মধ্যস্থতায় ভোগডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বাদী পক্ষ তাদের পিতার নামে ক্রয়কৃত জমির দলিল ও রেকর্ড উপস্থাপন করলে অভিযুক্তরা নীরব থাকে। সালিশ বৈঠকে দলিল যাচাই-বাছাই শেষে আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়।
এ ঘটনায় সচেতন মহলের প্রশ্ন—আদালতে চলমান মামলা ও চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিকের বাড়িতে লুটপাট, অবৈধ দখল এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে? কারা এই ইউনুস গ্রুপকে অর্থ ও শক্তি জোগাচ্ছে? তারা কি আইনের ঊর্ধ্বে?
সচেতন নাগরিকরা আরও বলেন, জমির দলিল ও রেকর্ড স্পষ্ট থাকার পরও এমন নেক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি দুঃখজনক। বর্তমানে ওই পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
মন্তব্য করুন