মঙ্গলবার ১৯ জানুয়ারি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব একেএম ইহ্সানুল হক মঞ্জুকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বৃহত্তর ময়মনসিংহ বিভাগীয় অঞ্চলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। বৃহত্তর ময়মনসিংহ বিভাগীয় অঞ্চলের আওতায় রয়েছে—ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা, কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল, জামালপুর ও শেরপুর জেলা।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্তের আলোকে এবং দলের নীতিনির্ধারণী হাইকমান্ডের নির্দেশনা মোতাবেক সাবেক সচিব একেএম ইহ্সানুল হক মঞ্জুকে ময়মনসিংহ বিভাগীয় অঞ্চলের বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, একেএম ইহ্সানুল হক মঞ্জু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুর-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন এবং মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন। পরবর্তীতে দলের হাইকমান্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেও জমা দিয়ে দলের প্রতি আনুগত্য ও শৃঙ্খলার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
সাবেক এই সচিব জাতীয়তাবাদী ঘরানার ব্যক্তি হিসেবে বাংলাদেশ সচিবালয়ে ব্যাপকভাবে পরিচিত ছিলেন। ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের সময় জাতীয়তাবাদী ঘরানার সরকারি চাকরিজীবীদের সংগঠিত করতে গিয়ে তিনি নানা রকম প্রতিকূলতার মুখে পড়েন।
২০১৪ সালে বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গিয়ে আলোচিত ‘বালুর ট্রাক’ ঘটনার সময় তিনি সেখানে আটকা পড়েন এবং চার দিন গুলশান বিএনপির কার্যালয়ে অবস্থান করতে বাধ্য হন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে।
বরখাস্তের পর হাসিনা সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও এজেন্সির পক্ষ থেকে নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করা হলেও তিনি আওয়ামী ফ্যাসিবাদের কাছে মাথানত করেননি। পরবর্তীতে ফ্যাসিবাদের পতনের পর বর্তমান ইউনুস সরকার ক্ষমতায় এলে তাকে সচিব পদের রাষ্ট্রীয় সকল সুবিধাসহ অবসরে পাঠানো হয়।
একেএম ইহ্সানুল হক মঞ্জু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি একজন অভিজ্ঞ প্রশাসক ও রাজনৈতিকভাবে সচেতন ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে তার স্ত্রী বেগম তাহমিনা আহমদ নির্বাচন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বিএনপির বৃহত্তর ময়মনসিংহ বিভাগীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে একেএম ইহ্সানুল হক মঞ্জুর মনোনয়নকে দলীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।