
আজ ৮ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক মেলান্দহ হানাদারমুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিন বিকেলে আলম কোম্পানির টুআইসি (পরবর্তীতে সেঙ্গাপাড়া কোম্পানি) কমান্ডার আব্দুল করিম মেলান্দহ উমির উদ্দিন পাইলট হাই স্কুল মাঠে প্রথম স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে মেলান্দহকে শত্রুমুক্ত ঘোষণা করেন। দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের উদ্যোগ নিয়েছে মেলান্দহ উপজেলা প্রশাসন।
জানা যায়, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মেলান্দহ সদর ও মাহমুদপুর পয়লা গ্রামে দুটি যুদ্ধক্ষেত্র ছিল। মাহমুদপুর পয়লা গ্রামের সম্মুখ যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ আলীর ব্রাশফায়ারে ১২জন পাকসেনা নিহত হয়। এ যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা রমিজ ও সমর নিহত হন। এছাড়াও ৮–১০ জন বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটে এই যুদ্ধে।
পাকবাহিনীর অপর একটি দল মেলান্দহের কলাবাধা হাইস্কুলের মুক্তিকামী শিক্ষার্থী আব্দুল কদ্দুসকে ধরে পার্শ্ববর্তী থানা ইসলামপুরে নিয়ে যায়। এ সময় তাঁর গলায় জুতোর মালা পরিয়ে জোরপূর্বক ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিতে বাধ্য করে। পরে তাঁকে জামালপুর কালিরঘাট বদ্ধভূমিতে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
৭ ডিসেম্বর রাতে কোম্পানি কমান্ডার আব্দুল করিমের নেতৃত্বে ৮ ডিসেম্বর সকালে পাক সেনাদের ক্যাম্প মেলান্দহ থানা ঘেরাও করার পরিকল্পনা নেয়া হয়। পরিকল্পনা মাফিক ৮ ডিসেম্বর সকালে ততকালিন ওসি জোনাব আলি, পাকসেনা, আলবদর ও রাজাকারসহ মোট ৪৬ জনকে অবরুদ্ধ করা হয়। পরিস্থিতি প্রতিকুল বিবেচনা করে ওসি জোনাব আলি সারেন্ডার করার প্রস্তাব দিলে কমান্ডার আব্দুল করিমের নেতৃত্বে তাদের মেলান্দহ উমির উদ্দিন পাইলট হাই স্কুল মাঠে নিয়ে যাওয়া হয় এবং প্রত্যেককে নিরস্ত্র করা হয়। ওই দিন ৮ ডিসেম্বর বিকেলে প্রায় ৪০ জন সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধার উপস্থিতিতে হানাদার বাহিনীর নেতৃত্বদানকারি ওসি জোনাব আলি আত্মসমর্পন করে। এর পর পরই কোম্পানি কমান্ডার আব্দুল করিম স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করেন এবং মেলান্দহ পাক হানাদারমুক্ত ঘোষণা করেন।
মেলান্দহ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রয়াত কমান্ডার আলহাজ এসএম আব্দুল মান্নানের উদ্যোগে ২০১০ সালে দিবসটি প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে পালন করা হয়। এরপর হতে মেলান্দহবাসীর ইতিহাস ও গৌরবের এই দিনটি প্রতি বছরই শ্রদ্ধাভরে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হয়।
মন্তব্য করুন