
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় পাট এর সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে পাটখড়ি ( স্থানীয় ভাষায় শোলা) এর দাম। উপজেলার বাজারগুলোতে বেশ চড়া মূলে বিক্রি হচ্ছে জ্বালানি লাকড়ি হিসেবে এই পাটখড়ি বা শোলা ।
উপজেলার চরাঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের চাষাবাদ শুরু হওয়ায় ও পাটের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় পাট চাষ থেকে সরে যাচ্ছেন চাষীরা। এতে করে কমছে পাট চাষ। যার কারনে পাটের শোলার দামও বৃদ্ধি বলে জানান পাটখড়ি বিক্রেতারা।
সরজমিনে দেখা যায়, উপজেলার গুঠাইল পাইলিং পার হাটে এক মণ পাট বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৮০০ টাকায়, অথচ সেই পাটের শোলা বিক্রি হচ্ছে প্রতি আটি ২০ থেকে ৩০ টাকায়,যা বিগত দিনগুলোর চেয়ে বেশি।
শোলা বিক্রেতা মোঃ শাহজাহান জানান, দিন দিন এই পাট শোলার চাহিদা বৃদ্ধি হচ্ছে, আর সরবরাহ কম থাকায় পাশের উপজেলা থেকে আমদানি করতে হয় বলে দাম একটু বেশি।
স্থানীয় কৃষক আব্দুল মালেক জানান, ভালো ফলন হলে পাটের পাশাপাশি এক একর জমিতে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার পাট শোলা বিক্রি করা সম্ভব। জ্বালানির লাকড়ি হিসেবেও পাটের শোলা ভালো। তাই পাটের পাশাপাশি শোলাও সংরক্ষণ করেন তারা।
সাপধরী ইউনিয়ন মন্ডল পাড়া এলাকার আব্দুল মজিদ জানান, সাত বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছিলাম,তা বিক্রি করে ভালোই টাকা পাইছি । পাট বিক্রি করে পাশাপাশি শোলা বিক্রি করেও লাভবান হচ্ছেন তিনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল জানান, এবছর ইসলামপুর উপজেলায় ১২০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছিলো । আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ও পর্যাপ্ত পাট পঁচানোর পানি থাকায়, নির্দিষ্ট সময়ে পাট ধুয়ে বিক্রি করেছেন চাষিরা। পরিবেশ বান্ধব জ্বালানি হিসেবেও পাটের শোলার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে দিন দিন। আগামী মৌসুমে পাটের চাষের লক্ষ্যমাত্রা বাড়বে বলেও জানান তিনি।
মন্তব্য করুন