জামালপুরের মেলান্দহে নির্বিচারে চলছে কৃষি জমির টপসয়েল কাটার মহোৎসব। প্রতিনিয়ত ফসলি জমি থেকে টপসয়েল কেটে নিয়ে ইটভাটা ও বসতবাড়ি উচু করণের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে ফসলি জমি উর্বরতা হারিয়ে খাদ্যশস্য ও অন্যান্য ফসল উৎপাদনের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। বাড়ছে দীর্ঘমেয়াদী খাদ্য সংকটের ঝুকি ও পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা।
প্রশাসনের তৎপরতায় সাময়িক বন্ধ হলেও কিছুদিন পর আবার শুরু হয় টপসয়েল কাটা। কিছু অসাধু মাটি ব্যবসায়ী দিনের বেলা কাজ বন্ধ রাখলেও রাতে আবার তৎপর হয় টপসয়েল অপসারণে। এ কারনে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেন অনেকে।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালের "উর্বর কৃষিজমি সংরক্ষণ আইন" অনুযায়ী, কৃষি জমির টপসয়েল কাটা পরিবেশ ও কৃষির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এবং আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ব্যাপারে জন সচেতনতা ও প্রতিরোধ গড়ে তোলা দরকার বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
সরেজমিনে, উপজেলার মাহমুদপুর, ফুলকোচা, চরবানিপাকুরিয়া ও নয়ানগর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সরকারি আইন ও নিয়মনীতি উপেক্ষা করে ফসলি জমির মাটি কেটে ট্রাক-ট্রলি ও ভটভটি গাড়িভর্তি মাটি অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন অপরিকল্পিতভাবে মাটি অপসারণের ফলে জমিগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দ।
এতে করে একদিকে ব্যাহত হচ্ছে কৃষকের ফসল উৎপাদন, পরিবর্তন হচ্ছে জমির শ্রেণিকরণ। অপরদিকে, ফসলি জমির উপর দিয়ে প্রতিনিয়ত মাটি বহনকারী গাড়ি চলাচলের ফলে নষ্ট হচ্ছে ফসল। ধুলিবালিতে একাকার হচ্ছে এলাকার বসত বাড়ি। ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে জনবহুল রাস্তাঘাট।
স্থানীয় কৃষক আসাদ আলী, সুজন মিয়া ও আবুল হোসেন জানান, এলাকার কিছু অসাধু মাটি ব্যবসায়ী সাধারণ কৃষকদের ভুলভাল বুঝায়। তারা নগদ অর্থের লোভ দেখিয়ে কৃষি জমির উর্বর অংশ তুলে নিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটায়। আবার কিছু মাটি ব্যবহার হচ্ছে নানা গর্ত ভরাট ও বসতভিটা উচু করনের কাজে। তাঁরা আরো জানায়, কৃষি জমির উর্বর মাটি কেটে ফেলায় এ অঞ্চলের ফসলের উৎপাদন দিন দিন কমে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে প্রশাসনকে জানালে কিছুদিন বন্ধ থাকে। পরবর্তীতে মাটি খেকোদের তৎপরতা আবারো শুরু হয়ে যায়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রউফ জানান, টপসয়েল ফসলি জমির উর্বরতা শক্তি। টপসয়েল কেটে নিলে সেই জমির উর্বরতা শক্তি ফিরে পেতে ১০-১২ বছর সময় লাগে। এতে কৃষিখাতে দীর্ঘমেয়াদী বিরূপ প্রভাব পড়ে। তিনি আরো জানান, সার্বিকভাবে টপসইল অপসারণে কৃষি উৎপাদন, খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশের জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিন্নাতুল আরা বলেন, মাটি কাটার খবর পেলেই অভিযান চালানো হচ্ছে। ইতিমধ্যে মাটি কাটার কাজে নিয়োজিত বেশ কিছু স্কেভেটার মেশিন জব্দ করে জরিমানা করা হয়েছে। টপসয়েল কাটার বিষয়ে কোন ছাড় দেয়া হবেনা বলেও জানান তিনি।