ঘন কুয়াশায় পথ হারিয়ে যমুনা নদীর মাঝখানে আটকা পড়ে ছিল নারী-শিশুসহ ৩৮ জন বরযাত্রী বহনকারী একটি নৌকা।
জানা গেছে মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়নের তারতাপাড়া এলাকার সানোয়ার হোসেন এর ছেলে নিলয় হাসান সানি (২৫) এর সাথে বগুড়া শহরের সাপগ্রাম চার মাথা এলাকায় একটি মেয়ের সাথে বিবাহ অনুষ্ঠান ছিল। শুক্রবার রাত ৭ টায় বগুড়ার সারিয়াকান্দি কালিতলা ঘাট থেকে নৌকা যাত্রা শুরু করে। কনে পক্ষের ৪/৫ জন ও বর সানি সহ প্রায় ৩৮ জন যাত্রী ছিল।
রাতে তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে যমুনা নদীতে আটকা পড়া নৌকার সকল যাত্রী নিরাপদে রয়েছেন বলে জানা গেছে ৷ নৌকা মাঝনদীতে নোঙর করে রাখা হয়েছিলো৷ রাতে উদ্ধার অভিযানের কোন সুযোগ না থাকায় সকাল ৯ টার দিকে মাদারগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় দুইটি মাছ ধরা টলারের সহযোগিতা নিয়ে মাঝ নদীতে আটকে পড়া নৌকাটি জামথল ঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মাদারগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা।
আটকে পড়া বরযাত্রীদের মধ্যে রাশেদুল ইসলাম বাবু, সিজার চৌধুরী, আকতার হোসেন,বজলু খান ও রফিকুল ইসলাম জানান রাত ৭ টায় কালিতলা ঘাট থেকে নৌকায় রওনা হই এবং কিছুক্ষণ যাওয়ার পর ঘন কুয়াশায় পথ হারিয়ে ফেলে নৌকাটি মাঝপথে নোঙর করা হয় এবং ভোর সাড়ে ৬ টার দিকে নৌকা ছাড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরবর্তীতে মাছ ধরার টলারে থাকা মাঝীরা পথ দেখিয়ে দেয় ১২ টায় আমরা ঘাটে পৌছি এ ঘটনায় কেউ অসুস্থ হয়নি।
মাদারগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশন অফিসার দেলোয়ার হোসেন জানান আমরা জানতে পারি মধ্যরাতে যাত্রীবাহী নৌকাটি পথ হারিয়ে ফেলে। সকাল ৮ টা ১৫ মিনিটে সংবাদ পাই এবং পৌনে ৯ টায় ঘাটে গিয়ে ঘাটে পৌঁছি বরযাত্রীসহ সকলকে উদ্ধার করি। আটকে পড়া নৌকায় বর,কনে,শিশু-বৃদ্ধসহ ৩৮ জন যাত্রী দুপুর ১২ টায় ঘাট থেকে স্ব স্ব বাসায় ফিরে।
মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমন চৌধুরী জানান দুটি ঘাট ই সারিয়াকান্দি'র কোনটাই মাদারগঞ্জের মধ্যে ছিল না। কিন্তুু আমরা যখন জানতে পারি নৌকায় আটকে পড়া সবাই মাদারগঞ্জের বাসিন্দা। বিষয়টি সারিয়াকান্দি ইউএনও কে অবগত করি সেখান থেকে নৌ- পুলিশ পাঠায় কিন্তুু ঘন কুয়াশার কারণে আটকে পড়া নৌকাটি তারাও খোঁজে পায়নি। সকালে আমি নিজে জামথল ঘাটে অবস্থান করি এবং মাদারগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় মাছ ধরার দুটি ট্রলার আটকে পড়া যাত্রীদের পথ দেখানোর ক্ষেত্রে এগিয়ে আসে এবং নৌকাটি জামথল ঘাটে এসে পৌছে। সকল যাত্রীদের খোঁজ খবর নেওয়া হয়, সুস্থ ভাবেই তারা বাসায় ফিরে।