
জাতীয় পতাকা উত্তোলন, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে জামালপুরের মেলান্দহে পাক হানাদারমুক্ত দিবস-২০২৫ উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে সোমবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
৮ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক মেলান্দহ হানাদারমুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিন বিকেলে আলম কোম্পানির টুআইসি (পরবর্তীতে সেঙ্গাপাড়া কোম্পানি) কমান্ডার আব্দুল করিম মেলান্দহ উমির উদ্দিন পাইলট হাই স্কুল মাঠে প্রথম স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে মেলান্দহকে শত্রুমুক্ত ঘোষণা করেন।
মেলান্দহ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রয়াত কমান্ডার আলহাজ এসএম আব্দুল মান্নানের উদ্যোগে ২০১০ সালে দিবসটি প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে পালন করা হয়। এরপর হতে মেলান্দহবাসীর ইতিহাস ও গৌরবের এই দিনটি প্রতি বছরই শ্রদ্ধাভরে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিন্নাতুল আরা’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আরিফুর রহমান। একাডেমিক সুপারভাইজার আশরাফুল আলমের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন, মেলান্দহ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা মো: ক্বারী আব্দুল হামিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব কিসমত পাশা, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আহসান হাবিব।
অনুষ্ঠানে মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক, বীর মুক্তিযোদ্ধা মজনু মিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হান্নান, বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা প্রমুখ।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিন্নাতুল আরা বলেন, মেলান্দহ হানাদার মুক্ত দিবসের এই গৌরবময় দিনে আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি সেই সব বীর মুক্তিযোদ্ধাকে, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমাদের প্রিয় এই ভূমি শত্রুমুক্ত হয়েছিল। ১৯৭১ সালের এই ঐতিহাসিক দিনটি আমাদের স্বাধীনতার ভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় করেছে। স্বাধীনতার সুফল প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে পৌঁছে দিতে হলে সকলকে দেশপ্রেম, সততা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করতে হবে। মেলান্দহের উন্নয়ন, শিক্ষার প্রসার ও সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানাই। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আমাদের পথ দেখাক- এই কামনা করি।
দেশের সকল মুক্তিযোদ্ধাদের মঙ্গল কামনা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মার প্রতি মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত পরিচালনা করেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা মো: ক্বারী আব্দুল হামিদ। এ সময়, উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি বেসরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যগণ, গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন